
নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ
জলাবদ্ধতার চরম ভোগান্তির মাঝে পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে এবার ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধের পর জাতীয় সংসদ ভবন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাত্রা করেছে আন্দোলনরত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল পৌনে চারটার দিকে দ্বিতীয় দফায় সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সেখানে দীর্ঘ সোয়া এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখার পর, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে তারা মিছিল সহকারে মিরপুর রোড হয়ে জাতীয় সংসদের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন।
শিক্ষার্থীরা মিছিল করতে করতে মিরপুর সড়ক ধরে জাতীয় সংসদের দিকে অগ্রসর হন। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, ১৫ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি হলো—
১. মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং সাম্প্রতিক বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
২. ১৩ জুলাই প্রতিকূল পরিবেশে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা দিতে পারেননি—সবার জন্য পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে।
৩. ১৫ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন রুটিন প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীবান্ধব করার দাবি জানানো হয়েছে।
বেলা ১টার দিকে সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে জড়ো হন। সেখান থেকে শাহবাগের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত হয়ে স্যার এ এফ রহমান হলের সামনের সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নেন। এরপর বেলা পৌনে ২টার দিকে তারা নীলক্ষেত মোড়ের দিকে সরে যান।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া ঢাকা কমার্স কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আলিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আমাদের দাবি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার জন্য এখানে রাজপথে নেমেছি। গতকালের প্রবল জলাবদ্ধতার মাঝে যেভাবে শিক্ষার্থীদের জোর করে পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং আমরা অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।”
অন্যদিকে, একই দাবিতে আজ সকাল ১১টা থেকেই চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় জড়ো হয়ে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা সড়ক অবরোধ করে প্রথমে ৩ দফা দাবি জানালেও পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ডে ৭ দফা সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দাবির স্বপক্ষে সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত না এলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন। তাদের ভাষ্য, সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।


