
অনলাইন প্রতিনিধি, চেতনা একুশ
প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম গ্রহণ, জীবনসঙ্গী নির্বাচন এবং বিবাহের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের ধর্ম, বিবাহ এবং ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করেন। এ ক্ষেত্রে বাবা-মা বা অন্য কারও হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া দুই বোনের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস রিটের শুনানিকালে বিচারপতি সন্দীপ জৈন এ মন্তব্য করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, ২০ বছর বয়সী দিব্যা ভাটিয়া (জয়া দিয়া ভাটিয়া) এবং ৩৫ বছর বয়সী অংশু ভাটিয়া (আমিনা অংশু ভাটিয়া) ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তাদের বাবা এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় দুই বোনকে জোরপূর্বক আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা সংশ্লিষ্ট নারীদের সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং নিজ সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে আদালত স্পষ্ট করেছেন, এই পর্যায়ে তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো—দুই বোন স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নাকি তারা কোনো ধরনের অবৈধ আটক বা চাপের মুখে রয়েছেন, সেটি নিশ্চিত করা।
এ লক্ষ্যে আদালত উত্তর প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুই বোনের বাবাকে আগামী ৬ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্ধারিত দিনে তাদের উপস্থিত করা না হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত হলফনামা দাখিল করতে হবে। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।


