
নিজস্ব প্রতিবেদক। চেতনা একুশ
রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজারে জিয়ারতকারী ও ভক্তদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), মো. আজম (৪০) ও মো. আরমান দেওয়ান (২৯)। শনিবার রাতে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিকভাবে তারা জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।
মামলার বাদী রেশমি বেগম, যিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শাহ আলী মাজারে জিয়ারতকারী ভক্তদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সহযোগিতা করে আসছেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাজার প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষের উপস্থিতির মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের ১০০-১৫০ জন নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীরা মাজারের শিরনির ডেগের লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মোমবাতির প্লেটসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রী ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে রেশমি বেগমকে মারধর করা হয় এবং তার শ্লীলতাহানির অভিযোগও তোলা হয়েছে। হামলায় মাজারের প্রায় ৩০ হাজার টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মাজার পরিদর্শন করে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পরে শাহ আলী থানার ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


