
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে বিএসএফ। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তে শূন্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে সানিয়াজান নদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শনিবার রাত ৯টার দিকে ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেন রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএসএফ সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের প্রায় দেড় শ গজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এরপর নদীতে পাথর ও বালু উত্তোলনরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর চড়াও হন তাঁরা। এ সময় শ্রমিকদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্র হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির মধ্যে বিএসএফ সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে দ্রুত নদী পার হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৭-এর উপপিলার ৪ নম্বরের এক পাশে রয়েছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত এলাকা। অন্য পাশে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার চ্যাংড়াবান্ধার বিএস বাড়ী সীমান্ত এলাকা।
শনিবার বিকেলে সীমান্তবর্তী ওই এলাকার সানিয়াজান নদীতে কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর ও বালু উত্তোলন করছিলেন। এ সময় ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএস বাড়ী ক্যাম্পের টহল দলের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন সদস্য নদীতে নেমে শ্রমিকদের বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁরা শ্রমিকদের মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শ্রমিকদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাঁরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফ সদস্যদের প্রতিরোধ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন বলে স্থানীয়রা জানান। এরপর তাঁরা দ্রুত নদী পার হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে বুড়িমারী কোম্পানি সদরের বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিএসএফ সদস্যদের প্রবেশ এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগের প্রতিবাদ জানায় বিজিবি।
তবে বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে সীমান্ত অতিক্রম ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা অস্বীকার করা হয়।
এ বিষয়ে রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর সহকারী পরিচালক কারিমুল ইসলাম বলেন, পাথর উত্তোলনের সময় বিএসএফ বাধা দেয়। এ সময় ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটলে বিএসএফের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। তখন ভয় দেখানোর জন্য সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রটেস্ট নোট (প্রতিবাদপত্র) দিয়েছি।”
সীমান্তে এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।


