Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

রামিসা হত্যা: মামলার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন, রায় ৭ জুন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে আজ। শুনানি শেষে আগামী ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

তদন্তে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজ করতে গিয়ে তার মা তাকে কোথাও খুঁজে পাননি।


একপর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার একটি স্যান্ডেল দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে দরজায় বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বাথরুমের একটি বড় বালতির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


ঘটনার পর রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ২০ মে আদালতে হাজির হয়ে আসামি সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে পুলিশ দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। তদন্তে সংগৃহীত ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়। এর পর মঙ্গলবার মামলায় টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভুক্তভোগী রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তারসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ঘটনার ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক বিবরণ উঠে আসে।

অদ্য ৪ জুন আদালতে যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতে আসামি সোহেলের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় কী জবানবন্দি দিয়েছেন, তা পড়ে শোনান।

আজ ৪ জুন মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর শুনানীতে গ্রেপ্তারের পর আসামি সোহেল রানার করা ১৬৪ ধারার জবানবন্দি পড়ে শুনান । আসামী তার জবানবন্দিতে বলেছে – ‘আমার নাম সোহেল রানা। ওই বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। এ বাসার তিন তলায় তিনটি ফ্ল্যাটে তিনজন থাকে। সকালে তারা কাজে বাসা থেকে বের হয়। আমি নিয়মিত নেশা করি।

সোহেল আরও বলেন, ‘পাশের বাসার ৮ বছরের শিশু রামিসা তাদের বাসার বাইরে এলে তাকে ডাক দিই। সে এলে তাকে বাথরুমে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। এরপর সে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরি। মুখে ওড়না বেঁধে আমি তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে রুম থেকে ছুরি আনি। লাশ গুম করতে চাই। এরপর তার মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করি। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি করে। আমি ভয় পাই। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।’

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল রহমান দুলু আদালতে বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান তিনি।

প্রতিবেদন : এড্‌ নাসরিন বেগম

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ