
অনলাইন ডেস্ক, চেতনা একুশ
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে এবার আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের একটি সম্মেলন কক্ষে শুরু হয় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক আলোচনা। ‘দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের নতুন আহ্বান’ শীর্ষক বৈঠকটি বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করণীয় এবং রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান চিত্র এবং এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেন।
বৈঠকে বিশ্বের আটটি দেশের প্রতিনিধির পাশাপাশি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) প্রতিনিধিত্ব করে তুরস্ক ও কুয়েত অংশ নেয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখা, রোহিঙ্গাদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের মৌলিক কারণ চিহ্নিত করা এবং তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে দেশটির সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনই সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথ।
এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সুসংগঠিত ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন-উপযোগী পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা। একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণ মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে।


