
## শিশু রামিসা হত্যার রেশ কাটতেই বাকলিয়ায় ৩ বছরের শিশু ধর্ষণ: রণক্ষেত্র চেয়ারম্যানঘাটা, জনতার সাথে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ**
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
সারাদেশে যখন নিষ্পাপ শিশু রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে, ঠিক তখনই চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়ায় মাত্র তিন বছরের এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও গণবিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা এলাকা। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডের ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ ভবনে এই জঘন্য অপরাধের ঘটনা ঘটে।
অসহায়ত্বের সুযোগে পৈশাচিকতা
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির মা জীবিকার তাগিদে পোশাক কারখানায় ডিউটিতে ছিলেন এবং বাবা রিকশা চালাতে বের হয়েছিলেন। এই সুযোগে বাসায় ঘুমন্ত শিশুকে একা পেয়ে পাশের দোকানের ৩২ বছর বয়সী এক কর্মচারী ঘরে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
জনতার প্রতিরোধ ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ
পৈশাচিক এই ঘটনা জানাজানি হতেই ফুঁসে ওঠে স্থানীয় সর্বস্তরের জনতা। তারা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত লম্পট যুবককে ধরে নিকটবর্তী একটি মাদ্রাসার গেটে তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ জনতা অপরাধীকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
এক পর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জনতার প্রবল বাধার মুখে পড়ে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হাতাহাতি ও তুমুল ধস্তাধস্তি। উত্তেজিত জনতার প্রতিরোধের মুখে কয়েক দফা অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স পাঠানো হলেও পুলিশের ৩ থেকে ৪টি গাড়ি পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পুরো এলাকাটি সাধারণ জনতার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চরম অ্যাকশন:
অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বাঁচতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একপর্যায়ে গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এতে পুলিশের হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আহত হন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসিসিতে শিশুটি
এদিকে রক্তক্ষরণ ও গুরুতর জখম অবস্থায় ওই নিষ্পাপ শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ফুটফুটে এই শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও পুলিশি বক্তব্য
এই বর্বর ঘটনার পর থেকে পুরো বাকলিয়া এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে সেখানে ব্যাপক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো পরিস্থিতিতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধীকে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে এবং এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে। তবে লম্পট ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী এখনো ফুঁসে আছেন।


