
নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ:
খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরে পবিত্র মাসজিদুল আকসায় ইবাদতরত মুসল্লিদের ওপর কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে ফজরের নামাজ চলাকালে সন্ত্রাসীদের আকস্মিক গুলিবর্ষণে দুই মুসল্লি গুরুতর রক্তাক্ত ও আহত হয়েছেন। পবিত্র উপাসনালয়ের ভেতরে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ, উদ্বেগ ও গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা হলেন— ওই মসজিদ কমিটির সম্মানিত সেক্রেটারি এবং খালিশপুর এলাকার বিশিষ্ট তেল ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম (৪৫) ও স্থানীয় সাধারণ মুসল্লি আলম মন্ডল (৫৫)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ঘটনার সময়ও মসজিদে ফজরের নামাজ ও ইবাদত চলছিল। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুই সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিতে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের মধ্যে মোটরসাইকেলচালক হেলমেট পরিহিত ছিল এবং পেছনে বসা অপর ঘাতকটি ছদ্মবেশ ধারণ করতে ধর্মীয় পোশাক পরে এসেছিল। তারা সরাসরি মসজিদের ভেতরে ঢুকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত রত লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি ছোড়ে।
সন্ত্রাসীদের ছোড়া একটি গুলি লোকমান হাকিমের মাথায় বিদ্ধ হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর পাশে থাকা অপর মুসল্লি আলম মন্ডলও ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে গুরুতর জখম হন। আলম মন্ডলের মাথা, গলার বাম পাশ ও ডান হাতের বাহুতে গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে।
গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে লোকমান হাকিমের অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় পাঠানো হয়। অন্যদিকে, আলম মন্ডলকেও দুপুরের দিকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে তাঁর ভাগ্নে সোহেল শিপন নিশ্চিত করেছেন।
নৃশংস এই হামলার খবর পেয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতার জের ধরে ব্যবসায়ী লোকমান হাকিমকে টার্গেট করেই এই কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় পাশে থাকায় অন্য আরেকজন মুসল্লিও গুলিবিদ্ধ হন।”
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেএমপির সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ তৎপর হয়েছে। ইতিমধ্যে অপরাধীদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক চৌকস টিম চিরুনি অভিযানে মাঠে নেমেছে।
আল্লাহর ঘরে ইবাদতরত অবস্থায় এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।


