Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

টেকনাফ সীমান্তে ডাকাত-বিজিবি তুমুল গোলাগুলি: দুই রোহিঙ্গা উদ্ধার, এলাকায় চরম উত্তেজনা

চেতনা একুশ ডেস্ক:

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীতে সশস্ত্র ডাকাতদলের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। হ্নীলা সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটা এই রোমহর্ষক ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির পর দুই রোহিঙ্গা জেলেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে বিজিবি।


শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নাফ নদীর ১ নম্বর স্লুইস গেট সংলগ্ন শূন্য রেখা থেকে প্রায় ৪০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই ঘটনা ঘটে। বিজিবির এই সাহসী ও ত্বরিত অভিযানে সীমান্তের বড়সড় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

মাঝনদীতে ডাকাতদের থাবা ও বিজিবির অ্যাকশন

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা ইমাম হোসেন (২৫) ও নুরুল আমিন (২৩) নামের দুই রোহিঙ্গা জেলে নাফ নদীতে একটি ডিঙ্গি নৌকায় মাছ ধরছিলেন। হঠাতই মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে একদল সশস্ত্র ডাকাত এসে তাদের ধাওয়া করে। প্রাণভয়ে জেলেরা হ্নীলা ১ নম্বর স্লুইস গেটের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও সশস্ত্র গ্রুপটি তাদের লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করে এবং তাদের ডিঙ্গি নৌকাটি ছিনতাই করে মিয়ানমারের খরের দ্বীপের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়।


খবর পাওয়া মাত্রই হ্নীলা বিওপির একটি চৌকস ও ক্ষিপ্র টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ডাকাতদলটি লুটেরা নৌকা নিয়ে ডুবারচর এলাকা অতিক্রম করার সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে পাল্টা ৫ থেকে ৬ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। বিজিবির এমন কড়া ও মুহুর্মুহু জবাবের মুখে টিকতে না পেরে ডাকাতদল পিছু হটতে বাধ্য হয়।

পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে

পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আতঙ্কগ্রস্ত দুই রোহিঙ্গা জেলেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। শনিবার রাতে উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে মোকাবিলা করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ