
চেতনা একুশ ডেস্ক:
বাংলাদেশে হৃদরোগের প্রকোপ দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৬২ হাজার মানুষ এই মারাত্মক রোগে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর নতুন করে আরও প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ হৃদরোগের শিকার হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ে রোগীকল্যাণ সমিতি আয়োজিত জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে প্রতিরোধমূলক জনসচেতনতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা ও রোগমুক্তির জন্য নতুন নতুন কৌশল ও উন্নত প্রযুক্তির সুপারিশমালা তৈরি করতে হবে, যা সরকার বাস্তবায়নে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও জানান, শহীদ জিয়ার আদর্শের পথ ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে একটি ‘মানবিক বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান বর্জন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং খাবারে লবণ ও চর্বির পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নারী ও শিশু হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ চালুর কথা উল্লেখ করে ডা. জাহিদ জানান, গত এক বছরে জটিল রোগীদের চিকিৎসায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং চলতি বাজেটে রোগ প্রতিরোধের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বা শিক্ষা বন্ধ হতে দেওয়া হবে না।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের স্বাস্থ্য খাতকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়। তিনি জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ হৃদরোগ ও আনুষঙ্গিক কারণে প্রাণ হারান। এই মৃত্যুহার কমাতে এবং চিকিৎসা সাশ্রয়ী করতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সুসজ্জিত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ১০০ জন জন্মগত হৃদরোগীর মাঝে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হাসপাতালের চিকিৎসক এবং রোগী ও তাঁদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।


