Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টের রুল

বিশেষ প্রতিনিধি, চেতনা একুশ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে মনোনয়নের সুযোগ রাখা বিধান সংশোধন কিংবা নতুন প্রবিধান প্রণয়নের প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল দেন।

রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের জন্য ২০২৪ সালের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালার ৭ নম্বর বিধি সংশোধন অথবা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিংবা দলীয় পদধারী ব্যক্তিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বা সভাপতি হিসেবে নির্বাচন, মনোনয়ন কিংবা অনুমোদনের অযোগ্য ঘোষণা করে নতুন প্রবিধান প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।

একই সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সুনামধন্য সমাজকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকদের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিচারিক নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

২০২৪ সালে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের জন্য প্রণীত প্রবিধানমালার ৭ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি কিংবা স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠাবেন। পরে শিক্ষা বোর্ড ওই প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করবে।

জামালপুরের বাসিন্দা ও নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. রুবেল মিয়া গত মাসে এ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। শুনানিতে তাঁর পক্ষে আইনজীবী মো. নাদির খান ও মো. সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান এবং মাহফুজ বিন ইউসুফ।

রিটের বিবাদী হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মো. নাদির খান বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার কারণে অনেক সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাই দলীয় প্রভাবমুক্ত, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ