Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখত ৮ মাসে বিদ্যুৎ খাতে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা।

চেতনা একুশ ডেস্ক:

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামী বছরের গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সরকারের এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সভায় মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি হিসেবে ব্যয় করতে হচ্ছে।

গত আট মাসের আর্থিক চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, এ সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে সরকারকে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক চাপ ও বাড়তি ব্যয় সামাল দিয়েও জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রচলিত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে আগামী গ্রীষ্মের আগেই পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার। এ জন্য বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকার কিনে নেবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য হিসেবে ১০ টাকা পরিশোধ করা হবে। সরকারের এ উদ্যোগের ফলে ব্যক্তি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে এবং জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। বিশেষ করে বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের জন্য জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। একই সঙ্গে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি কৃষি খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সেচ কার্যক্রমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে কৃষি উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়বে, অন্যদিকে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প ব্যবস্থাও গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সরকারের ঘোষিত পাঁচ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে এখন সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ের অংশগ্রহণ কতটা বাড়ে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ