বিশেষ প্রতিনিধি, চেতনা একুশ:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আবুল কালাম নামে এক সাবেক পুলিশ কনস্টেবলের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে একটি নির্জন স্থানে তাকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় তার হাত-পা ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার তারাবো পৌরসভার উত্তর মাসাবো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আবুল কালাম বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, উত্তর মাসাবো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের প্রকাশ্য কেনাবেচা ও সরবরাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন আবুল কালাম। মাদক কারবার বন্ধে তিনি স্থানীয়ভাবে সোচ্চার ছিলেন। সম্প্রতি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শাহাদাত ও এমদাদুল নামে দুই ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে সহযোগিতা করেন তিনি।
এ ঘটনার পর থেকেই শাহাদাতের ছোট ভাই শাহজালাল তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই আবুল কালাম তাঁদের ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে শাহজালাল মুঠোফোনে আবুল কালামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে উত্তর মাসাবো এলাকার একটি নির্জন বিলে পৌঁছালে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁর ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার হাত ও পা ভেঙে যায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে দিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
আবুল কালামের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে গুরুতর আহত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহজালাল, শাহাদাত ও এমদাদুলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পাঠানো খুদেবার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় একজন সাবেক পুলিশ সদস্যের ওপর এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনায় উত্তর মাসাবো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


