
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। দুপুরের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাসার সামনে উৎসুক মানুষের ভিড়। ভেতরে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট আলামত সংগ্রহে ব্যস্ত। অন্যদিকে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

বাসার একটি কক্ষে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে ছিলেন রামিসার মা–বাবা। স্বজনরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল রামিসার। কিন্তু হঠাৎ তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রামিসার মা পারভীন ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে শিশুটির একটি জুতা দেখতে পান। এতে সন্দেহ হলে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় বারবার নক করা হয়। তবে দীর্ঘ সময়েও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে এসে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে এসেছে সোহেল রানার নাম। পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আগের একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সোহেল রানা বিকৃত মানসিকতা ও বিকৃত যৌনরুচির অধিকারী হতে পারে। যদিও বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার দাবি করেছেন তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে তদন্তকারীদের ভাষ্য, রামিসার মা দরজায় ধাক্কা দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় দরজা না খোলা এবং সোহেল রানার পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার ঘটনায় স্বপ্নার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিশু রামিসার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।
রিপোর্ট : এড্. নাসরিন বেগম


