
নিজস্ব প্রতিবেদক , চেতনা একুশ
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো ছয় আসামি হলেন—মোঃ শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, মোঃ শাহআলম, মোঃ আতিকুর রহমান, মোঃ কামরুল ইসলাম ও মোঃ শাকিল।
এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ আতোয়ার রহমান।
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে পাওয়া আসামিদের নাম-ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও আদালতের কাছে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোঃ এমরান হুসাইনসহ অন্য আইনজীবীরা তাদের জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করা হয়।
এর আগে একই মামলায় শনিবার চার আসামি—মোঃ সোহেল, মোঃ জুয়েল, মোঃ জিহাদ হাসান ও মোঃ রাব্বিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার একটি আদালত।
যেভাবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহ আলী থানাধীন এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে। পরে হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে তারা ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশে থাকা প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও সেখানে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়। ওই কক্ষের আসবাবপত্র ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
একইভাবে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায়ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সবশেষে আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালায় ভাঙচুর চালানো হয়। এতে আরও প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লুট হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
লুট হওয়া এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচটি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং বিভিন্ন মালামাল লুটের ঘটনায় সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় দুই নৈশপ্রহরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন।
মামলায় মোঃ হানিফ মিয়াসহ (৫০) অজ্ঞাত পরিচয় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।


