Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসছে আর পতিত স্বৈরাচারের সহযোগীরা দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তের চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল‌ ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ

পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীরা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করা এবং জনজীবনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে। সেই অর্থে দেশের অভ্যন্তরে তাদের সহযোগীরা বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এমনকি বিভিন্ন কলকারখানায় পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীতে আখচাষিদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশের চলমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা রুখতে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এখন সময় এসেছে দেশবাসীর সজাগ হওয়ার। কেউ যেন বাংলাদেশে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না।

জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজনে অনুপস্থিতির সমালোচনা

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের আগে শত শত শিক্ষার্থী ও নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি একুশ, একাত্তর ও চব্বিশের চেতনাকে ধারণ করে। এ কারণেই দলটি জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে সোমবার ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এ আয়োজনে চব্বিশের চেতনাকে ধারণ করার কথা বলা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে সেসব দলের কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যেভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করা হয়েছিল, একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এসব রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের সঙ্গে তাদের কর্মকাণ্ডের মিল নেই। মুখে এক কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভ্রান্তের অভিযোগ

নির্বাচনের আগে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা এবং টিকিট বিক্রির রাজনীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ এসব কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। অথচ এখন সেই পক্ষগুলো আবার একত্র হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার তৎপরতা চালাচ্ছে।

দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখনই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে উদ্যোগ নিয়েছেন, তখনই দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহল নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। এখন আবারও সেই মহল সক্রিয় হয়ে দেশের অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা নয়, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।

২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তরের আহ্বান

দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মক্ষম জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। নিজেদের শ্রম, মেধা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে।

তিস্তা-পদ্মায় ব্যারেজ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের প্রতিশ্রুতি

জনসভায় উত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি তিস্তা ও পদ্মা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শিগগির শুরু করে তা সম্পন্ন করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিশেষ করে প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

কৃষকদের সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করার কথা বলেন।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমানের বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং কৃষি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তিনি এসব লক্ষ্য অর্জনে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ