Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

বদলে যাচ্ছে সচিবালয় ও জজকোর্টের ঠিকানা: সচিবালয় যাচ্ছে শেরেবাংলা নগরে, গণি রোডে যাচ্ছে নিম্ন আদালত

সচিবালয়। ছবি সংগৃহীত

চেতন একুশ প্রতিবেদক

পুরান ঢাকার আদালত পাড়ার দীর্ঘদিনের তীব্র স্থানসংকট ও জনদুর্ভোগ লাঘবে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রখ্যাত নবাব আবদুল গণি রোডের বর্তমান সচিবালয় চত্বরে নিম্ন আদালত স্থানান্তরের বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এর বিপরীতে সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠ প্রাঙ্গণে।

নতুন এই সচিবালয় ভবন নির্মাণে ইতোমধ্যে একটি আধুনিক লেআউট বা নকশা প্রস্তুত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর। শেরেবাংলা নগরের ২৪ একর জমিনজুড়ে প্রস্তাবিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তৈরি করা নকশাটি বর্তমান সরকারপ্রধানের পছন্দ হওয়ায় এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই স্থানান্তর?

পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায় বর্তমানে ১১৪টি আদালত রয়েছে। এখানে প্রায় সাড়ে চার লাখ ফৌজদারি এবং দেড় লাখ দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন। অথচ প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে সেখানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ভিড় জমান। ঘিঞ্জি ও আঁকাবাঁকা গলির এই চত্বরে প্রয়োজনের তুলনায় জায়গার মারাত্মক সংকট রয়েছে। অনেক আদালতের নিজস্ব এজলাস নেই, ভাগাভাগি করে কার্যক্রম চালাতে হয়। মামলার নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য সেরেস্তা, নকলখানা কিংবা রেকর্ড রুমও পর্যাপ্ত নয়। সবচেয়ে বড় কথা, বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের বসার জায়গা, বিশ্রামাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত শৌচাগারের তীব্র সংকট রয়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থাও না থাকায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়েন বিচারপ্রার্থীরা।

পরিকল্পনা থেকে একনেকের পথে

গত আগস্টের শেষ দিক থেকে এ বিষয়ে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত বৈঠক বসে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা-৩ থেকে পরিকল্পনা কমিশনের কাছে প্রকল্পটির অনুমোদনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপির অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিং কমিটির সারসংক্ষেপও পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুতই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া

রাজধানীর নিম্ন আদালত স্থানান্তরের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আইনজীবীরা। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এ বিষয়ে বলেন, ‘পুরান ঢাকার সংকীর্ণ এলাকায় বর্তমান আদালতের কার্যক্রম চালানো ভীষণ কঠিন। সচিবালয় বা অন্য কোনো প্রসারিত জায়গায় এটি স্থানান্তরিত হলে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা অনেক বড় সুবিধা পাবেন। এই খবরটি সত্যিই আনন্দদায়ক।’

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে আদালতপাড়ায় এসে চরম ভোগান্তির শিকার হওয়া বিচারপ্রার্থী কাজী হায়দার আলী জানান, এজলাসে আইনজীবীদের বসার স্থান থাকলেও সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের দাঁড়িয়েই দিন পার করতে হয়। একটু বসার বা বিশ্রামের সুযোগ না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের।

পুরান ঢাকার এই জনবহুল আদালতের ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থানান্তরের এই উদ্যোগ বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ