Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

নাটোর-৪ আসনের এমপি আব্দুল আজিজের বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল: দল থেকে বহিষ্কার ও পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর

নিজস্ব প্রতিনিধি। চেতনা একুশ :

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্যের নামে কয়েকটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল, অন্যদিকে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় এমপি-পুত্রের গ্রেফতার ও রিমান্ড—এ দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের একটি বড় অংশ সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে দল থেকে বহিষ্কার এবং তার পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে অসন্তোষ ও বিলবোর্ড ভাঙচুর

বুধবার সকাল থেকেই সংসদ সদস্যের বিতর্কিত ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন আইডিতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সমালোচনা শুরু হয়। ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওতে সংসদ সদস্যকে খালি গায়ে খাটের ওপর অবস্থান করতে দেখা গেছে বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওগুলোর উৎস, আসল সত্যতা কিংবা এগুলো প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের একাংশ সামাজিক মাধ্যমে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণাও দিয়েছেন। এছাড়া বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাস মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টানানো সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছবি সংবলিত বিলবোর্ড ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।

অভিযোগ নিয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্য

নিজের নামে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার জনপ্রিয়তা ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে প্রযুক্তির অসদ্ব্যবহার করছে। তিনি জানান, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এ ধরনের বানোয়াট ভিডিও তৈরি করা অসম্ভব কিছু নয়। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করতেই পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সুশীল সমাজ ও দলীয় হাইকমান্ডের অবস্থান

ঘটনাটি নিয়ে নাটোর জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) পক্ষ থেকে নৈতিকতার বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের দায়িত্বশীলরা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধিদের নৈতিকতার মানদণ্ড বজায় রাখা অতীব জরুরি এবং যেকোনো ধরনের অনৈতিক আচরণের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। দলের যেকোনো পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠলে সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জেলা বিএনপির আগামী আহ্বায়ক কমিটির বৈঠকে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় এমপি-পুত্রের গ্রেফতার

ভিডিও বিতর্ক ছাড়াও গুরুদাসপুরের রাজনৈতিক আবহাওয়া আগে থেকেই বেশ উত্তপ্ত ছিল। সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলায় স্থানীয় ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম (৩২) নিহত হওয়ার ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের পুত্র ও যুবদল নেতা নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত ইতোমধ্যে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গুরুদাসপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পাশাপাশি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নুরুজ্জামান মিন্টুকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি।

রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্বস্তি

ছাত্রদল নেতা হত্যার পর এমপি-পুত্রের গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে সংসদ সদস্যের নামে আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর পরপর দুটি ঘটনা স্থানীয় বিএনপিতে এক নজিরবিহীন অস্বস্তি তৈরি করেছে। একদিকে আইনি বিচার ও দলীয় জবাবদিহির চাপ, অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন—সব মিলিয়ে নাটোর-৪ আসনের বিএনপির স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর মোড় নিয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ