Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব ও জাতীয় সংহতির চেতনায় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডিজিটাল ডেস্ক । চেতনা একুশ:

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমিক সেনাসদস্য ও মুক্তিকামী জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে সিপাহি-জনতা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁদের সাহসী ঐক্য ও সম্মিলিত প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে সেদিন দেশের স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয় আরও সুদৃঢ় হয়েছিল।

দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ওই সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশকে অন্য কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল কিংবা অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। একই সঙ্গে জনগণের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং জাতীয় সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সিপাহি-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে সেই অপচেষ্টা সফল হয়নি। ইতিহাসের ওই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দেশের প্রকৃত শত্রু ও মিত্রকে চিহ্নিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকা যেমন বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তেমনি অতীতের ঘটনাপ্রবাহ ও অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ ভুলে যাওয়াও সমীচীন নয়। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হলে ইতিহাসের বাস্তব শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত অপশক্তি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কৌশলে পুনর্গঠিত হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সার্বভৌমত্বকে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জাতীয় সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও সম্মানের ওপর আঘাত আসে। পাশাপাশি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে দীর্ঘ সময়ের জন্য ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বৈষম্য, নিপীড়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে। ওই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চেপে বসা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে ১৯৭১, ১৯৭৫ ও ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত সংগ্রাম। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের এক রক্তস্নাত লড়াই। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজপথে নেমেছিলেন।

ভবিষ্যতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার নিয়ে যাতে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও তা অটুট রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের অন্তর্নিহিত চেতনাকে ধারণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং একটি নিরাপদ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি উচ্চারণ করেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব ও জাতীয় সংহতির চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী, স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় ঐক্যই হবে আগামীর পথচলার অন্যতম প্রধান শক্তি।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ