
চেতনা একুশ | আদালত ও বিচার বিভাগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
মামলা জট নিরসন এবং বিচারপ্রার্থীদের সহজে ও দ্রুত বিচারিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির আওতায় আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে এ-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র জারি করা হয়।
এডিআর ব্যবস্থার পরিধি ও অনুমোদন
জারি করা পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, সুনির্দিষ্ট কিছু দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের আওতায় দায়ের করা মামলাগুলো যেন দীর্ঘমেয়াদি বিচার প্রক্রিয়ায় না গিয়ে মধ্যস্থতা বা আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে সম্মতি ও অনুমোদন দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
এর ফলে বিচারপ্রার্থীরা সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমঝোতার মাধ্যমে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করার আইনি সুযোগ পাবেন।
যেসব আইনের অধীন মামলা আপস-মীমাংসা করা যাবে
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল নির্দিষ্ট কিছু আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে এই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবে। আইনগুলো হলো:
- পারিবারিক সংক্রান্ত আইন: পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ৫ নম্বর ধারা।
- পারিবারিক ও সামাজিক সুরক্ষা: পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর ৫ নম্বর ধারা এবং যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ও ৪ নম্বর ধারা।
- নারী ও শিশু সুরক্ষার ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ) ধারা।
- দণ্ডবিধির (Penal Code) বিভিন্ন ধারা: দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩৫৪, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮১, ৪০৬, ৪১৭, ৪২০, ৪৯৪, ৫০০, ৫০১ ও ৫১১ নম্বর ধারা।
- দেওয়ানি আইনি প্রতিকার: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮ ৭৭ (Specific Relief Act)-এর ৮, ৯, ১২, ৩৯, ৪২ ও ৫৪ নম্বর ধারা।
- অর্থসংক্রান্ত চেক ডিজঅনার মামলা: নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ নম্বর ধারা।
কেন এই সিদ্ধান্ত: বিচার বিভাগে এর প্রভাব
বিচার বিভাগীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আদালতে মামলা জট কমানো এবং বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থীদের অর্থ ও সময় সাশ্রয় করতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রভাব ও তাৎপর্য: দেওয়ানি ও ছোটখাটো ফৌজদারি বিরোধগুলো আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে দ্রুত নিস্পতি হলে সাধারণ মানুষের কাছে বিচার ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস এখন থেকে এসব বিরোধ নিষ্পত্তিতে সরাসরি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পারবে।


