Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

অনলাইনে মাদকের ব্যবসায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

চেতনা একুশ ডেস্ক

ঢাকা: অনলাইনভিত্তিক মাদক ব্যবসা দমনে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সাইবার স্পেস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা যেকোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ, প্রচার কিংবা লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল।

সোমবার জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক ব্যবসা এবার সরাসরি আইনের আওতায়

বিদ্যমান আইনে নির্দিষ্ট কিছু মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, বিক্রি ও সেবনের জন্য সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সাইবার স্পেসে পরিচালিত মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রমকেও কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা যেকোনো ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে মাদক বা সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন কিংবা এ-সংক্রান্ত যোগাযোগ পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এছাড়া ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে মাদক লেনদেনের বিষয়টিও নতুন আইনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মাদক উদ্ধার না হলেও মিলতে পারে শাস্তি

নতুন আইনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো, সাইবারভিত্তিক মাদক অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, অনলাইন যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতেই অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব হবে।

আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক চক্র বা সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের মাধ্যমে এ অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

আরও শক্তিশালী হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

আইনটিকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রাধিকার এবং বিশেষ ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, মাদকপ্রবণ এলাকায় বিশেষ মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধানও পুনর্বহাল করা হয়েছে।

‘মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় নয়’

বিলের ওপর আলোচনার সময় কয়েকজন সংসদ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উত্থাপন করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে বাহিনীরই সদস্য হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ