Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

আইএমএফের জরুরি ঋণের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানোর জোর প্রস্তুতি

চেতনা একুশ ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা সামলাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। ইরান-ইসরাইল সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই মূলত এই আগাম সতর্কতা ও ঋণ আলোচনা।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতেই আইএমএফ এই নতুন সহায়তা প্যাকেজটি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর আগে গত মার্চ মাসেই ঢাকার নীতি নির্ধারকরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বৈশ্বিক এই সংকটকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে আইএমএফের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিশেষ জরুরি ঋণ বা ‘র‍্যাপিড ফাইন্যান্সিং ইনস্ট্রুমেন্ট’ (আরএফআই) নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশে দায়িত্বরত আইএমএফের প্রতিনিধি ইভো ক্রজনার এই আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সংস্থাটি বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি এবং সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে।

কেন এই জরুরি ঋণ (আরএফআই)?আইএমএফের ‘র‍্যাপিড ফাইন্যান্সিং ইনস্ট্রুমেন্ট’ (আরএফআই) হলো সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি বিশেষ আপদকালীন ব্যবস্থা। সাধারণত বড় কোনো মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ কিংবা আকস্মিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কায় কোনো দেশ সংকটে পড়লে এই তহবিল থেকে দ্রুত অর্থসহায়তা দেওয়া হয়। এই ঋণের বিশেষত্ব হলো, এতে আইএমএফের প্রথাগত কঠিন শর্তগুলো শিথিল থাকে, যাতে সংকটের মুহূর্তে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা যায়।

এর আগে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির চরম সংকটের সময়েও বাংলাদেশ এই ব্যবস্থা থেকে ৭৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের জরুরি সহায়তা নিয়েছিল। সে সময় বাজেট ঘাটতি পূরণ, স্বাস্থ্য খাতের জরুরি ব্যয় এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

চলমান ঋণ কর্মসূচির বর্তমান চিত্রউল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের একটি নিয়মিত ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৫ সালের জুনে এই ঋণের আকার আরও ৮০ কোটি ডলার বাড়িয়ে মোট ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়।

এই বৃহৎ প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার লাভ করেছে। বাকি থাকা ১৮৬ কোটি ডলারের মধ্যে ষষ্ঠ কিস্তির বড় একটি অংশ আগামী জুন বা জুলাই মাসের মধ্যেই ছাড় হতে পারে বলে আশা করছেন অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৈশ্বিক এই অস্থিরতার সময়ে আইএমএফের নতুন জরুরি প্যাকেজ এবং চলমান ঋণের পরবর্তী কিস্তির অর্থ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ