
চেতনা একুশ নিউজ ডেস্ক
জাতীয় রাজনীতির পটভূমিতে এবার এক চরম বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগের কারণেই স্বয়ং জামায়াতের আমির ঢাকা-১০ আসন ছাড়েননি বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। আজ রোববার (৩১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বোমাতাঞ্চক দাবি করেন।
রাশেদ খান সংবাদ মাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকরা যদি জামায়াত আমিরকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন, তবেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। জামায়াত আমির যদি ইমানদার হন, তবে তিনি হয় বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন, না হয় সত্যটা স্বীকার করবেন। এই ভেতরের খবরটি এনসিপির নীতিনির্ধারণী মহলের সবাই পরিষ্কারভাবে জানে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, রাজনৈতিক কৌশল বা নিজেদের ইমেজ বাঁচাতে নাহিদ ইসলাম হয়তো এখন এই বিষয়টি অস্বীকার করতে পারেন। কিন্তু ঘটনাটি শতভাগ সত্য এবং এতে বিন্দুমাত্র কোনো সন্দেহ নেই। তিনি নির্দিষ্ট কিছু সূত্রের সূত্র ধরে আসিফ মাহমুদ ও তার এপিএস মোয়াজ্জেমের দুর্নীতির অকাট্য তথ্য পেয়েছিলেন। এমনকি এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে তিনি সরকারের অন্য একজন উপদেষ্টার সঙ্গেও কথা বলেছিলেন, যিনি এই দুর্নীতির কথা শুনে রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে যান।
শুধু আসিফ মাহমুদই নন, রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্টে উঠে এসেছে আরও একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের বহুল আলোচিত ডিসি কেলেঙ্কারির ঘটনাটিও সম্পূর্ণ সত্য ছিল, যার পেছনে হাসনাত ও সারজিসের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই তথ্যগুলো তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং তাদের কাছের মানুষদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করেছেন।
একইসঙ্গে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলে রাশেদ খান বলেন, নাসীরুদ্দীন প্রায়শই বলতেন যে আওয়ামী লীগের সম্পদ দখল এবং বিপুল অর্থকড়ি ছাড়া রাজনীতি করা অসম্ভব। এমনকি নাহিদ ইসলামের মন্ত্রী পাড়ার সরকারি বাসভবনে যখনই কোনো রাজনৈতিক বৈঠক হতো, সেখানেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মুখে সবসময় এই টাকার অঙ্ক ও লেনদেনের আলাপটাই প্রধান হয়ে উঠত।
প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিশেষ পরামর্শ ও সুপারিশেই এজাজকে এই পদে বসানো হয়, কারণ এজাজ এর আগে নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে কাজ করেছিলেন। মোহাম্মদ এজাজের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সব অর্থকড়ি সরাসরি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও এনসিপির তহবিলে জমা হয়। রাশেদ খানের দাবি, এনসিপির শীর্ষ সারির অন্তত এক ডজন নেতা যে ব্যাপক দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, তা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ‘ওপেন সিক্রেট’।
দুর্নীতির আরও একটি খণ্ডচিত্র তুলে ধরে তিনি সবাইকে মনে করিয়ে দেন, সারজিসের কাছে এক নারীর ৭ লাখ টাকা হস্তান্তরের ভিডিওর কথা। বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পোস্টের একেবারে শেষাংশে এসে আবেগঘন ও আক্রমণাত্মক সুরে রাশেদ খান বলেন, শহীদ ওসমান হাদি মৃত্যুর আগে এনসিপির প্রধান ৩টি বড় অপরাধকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম শীর্ষ অপরাধ ছিল এই লাগামহীন দুর্নীতি। শহীদ ওসমান হাদি নিশ্চয়ই কোনো মিথ্যা কথা বলে যাননি। যদি তিনি মিথ্যা বলে থাকেন, তবে এনসিপি সাহস করে বলুক যে শহীদ ওসমান হাদি তাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে গেছেন।
রাজনীতির অন্দরের এমন সব নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এখন রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।


