Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

এবার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকের ফ্রান্স সফরে ‘না’ প্রধানমন্ত্রীর: অহেতুক বিদেশ সফর ও নাম পরিবর্তন বন্ধে অনড়

চেতনা একুশ ডেস্ক:

সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায়, সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি দেখতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমানের ফ্রান্স সফরের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন—এমন কোনো কর্মকর্তার বিদেশ যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্সের আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (এএলএসি) পরিদর্শন এবং বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিতে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইটের একটি সফর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার (৮ জুন) এই প্রস্তাবের ফাইলটি নাকচ করে দিয়ে কড়া অনুশাসন দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


ফাইল নোটে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তির আধুনিক জ্ঞান সিটি করপোরেশনের কাজে লাগানোর জন্য প্রকৌশলীর সফর যুক্তিযুক্ত হতে পারে। কিন্তু প্রশাসক কোনো টেকনিক্যাল ব্যক্তি বা প্রকৌশলী নন, তাই এই সফরে তার যাওয়ার বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই। প্রয়োজন মনে করলে শুধু নির্বাহী প্রকৌশলী এই সফরে যেতে পারেন। একই সঙ্গে এই ধরনের আধুনিক প্রযুক্তিগত কাজের জন্য বিদেশ না তাকিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সহ দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।


প্রশাসনিক নীতি ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর অবস্থান অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে মশকনিধন কার্যক্রম দেখতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাবও তিনি বাতিল করেছিলেন। সে সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, মশা মারার উপায় শিখতে আমেরিকা যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; দেশের বাস্তব পরিবেশ ও সম্পদ কাজে লাগিয়েই এর কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব।


শুধু বিদেশ সফরই নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দিষ্ট নীতিগত অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে করার একটি প্রস্তাব এসেছিল, যা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, চলমান কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন না করে, প্রয়োজনে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে সেটির নামকরণ করা যেতে পারে।


সচেতন মহল মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো সরকারি অর্থ সাশ্রয়, মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং আমলাতান্ত্রিক অপচয় বন্ধে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ