Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

ঘুষের বিরুদ্ধে ডিজিটাল বিদ্রোহ: ঘুষের চিত্র সামনে আনছে ‘ঘুষ.সাইট’, দুই দিনেই ১,৮৫৬ অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক, চেতনা একুশ

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোথায়, কীভাবে এবং কত টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে—সেসব অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনতে চালু হয়েছে নতুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ঘুষ.সাইট’। গত ২১ আগস্ট চালু হওয়া এই ওয়েবসাইটে পরিচয় গোপন রেখেই সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে পারছেন ভুক্তভোগীরা। চালুর মাত্র দুই দিনেই প্ল্যাটফর্মটিতে জমা পড়েছে ১ হাজার ৮৫৬টি অভিযোগ।

উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের মোট পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অভিযোগগুলো দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সেবাখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

বাংলাদেশি দুই বন্ধু সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ বিদেশের একটি ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘ঘুষ.সাইট’ তৈরি করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো, বিভিন্ন মানুষের বিচ্ছিন্ন ঘুষের অভিজ্ঞতাগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে এনে সরকারি কোন দপ্তর বা সেবাখাতে অনিয়মের মাত্রা বেশি, তার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা।

তবে উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘ঘুষ.সাইট’ কোনো তদন্ত সংস্থা কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিকল্প নয়। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে ‘আনভেরিফায়েড’ বা যাচাইহীন উল্লেখ করা থাকে।

যেভাবে অভিযোগ করা যায়

প্ল্যাটফর্মটিতে অভিযোগ জানাতে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। দুই মিনিটেরও কম সময়ে একজন ভুক্তভোগী তার অভিজ্ঞতা জানাতে পারেন।

অভিযোগের ক্ষেত্রে মূলত পাঁচটি তথ্য দিতে হয়—সরকারি দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা বা অঞ্চল, ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে তার ফলাফল।

এ ছাড়া ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করার সুযোগ রাখা হয়নি। নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে টার্গেট করার পরিবর্তে কোন সরকারি সেবায় অনিয়ম বেশি হচ্ছে, সেটিই তুলে ধরতে চান উদ্যোক্তারা।

ব্যবহারকারীদের পাঠানো অভিযোগ সরাসরি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় না। প্রকাশের আগে সেগুলো কঠোর মডারেশনের মধ্য দিয়ে যায়। এ সময় ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য বাদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আক্রমণাত্মক, অস্পষ্ট কিংবা ওয়েবসাইটের নীতিমালা লঙ্ঘন করে—এমন অভিযোগও প্রকাশ করা হয় না।

ঢাকায় সবচেয়ে বেশি অভিযোগ

উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চালুর প্রথম দুই দিনে জমা পড়া ১ হাজার ৮৫৬টি অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে। এখানে অভিযোগের সংখ্যা ৮৬৯টি।

এরপর চট্টগ্রামে ৪৩৮টি, রাজশাহীতে ১২২টি, খুলনায় ১১৫টি, রংপুরে ৯৮টি, সিলেটে ৭৯টি, ময়মনসিংহে ৭১টি এবং বরিশালে ৬৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

অভিযোগকারীদের মধ্যে অন্তত ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা সরকারি সেবার বিপরীতে চাওয়া ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উদ্যোক্তাদের মতে, ঘুষের দাবি প্রত্যাখ্যান করার এই তথ্যও নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিজেদের অর্থেই পরিচালনা

কোনো এনজিও বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান ছাড়াই নিজেদের অর্থে ‘ঘুষ.সাইট’ পরিচালনা করছেন সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ। তবে সাধারণ মানুষের জন্য স্বেচ্ছা অনুদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।

উদ্যোক্তা সাইফ কবির একটি গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের কাছে সাফল্যের মাপকাঠি শুধু ওয়েবসাইটের ভিজিটর সংখ্যা নয়। কোনো নাগরিক সরকারি সেবা নিতে যাওয়ার আগে অন্য মানুষের অভিজ্ঞতা দেখে কোথায় ঘুষ চাওয়া হচ্ছে তা বুঝতে পারেন এবং অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন—এটাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ