Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

জনগণের ম্যান্ডেট রক্ষায় নেতাকর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উদাত্ত আহ্বান: সামনে কঠিন পথ, সফল হতে হবেই

বিশেষ প্রতিবেদক, চেতনা একুশ
দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সামনে এক অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে সরকারকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রাজধানী ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিটউশন মিলনায়তনে এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে হেলাফেলার সুযোগ নেই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমাদের সামনে যে সময়টি আসছে, তা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সময়টাকে যদি আমরা হেসে-খেলে অবহেলায় পার করে দিই, তবে দেশ এক বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে। এই ক্ষতি কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, এই ক্ষতি হবে সমগ্র দেশের এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।”

তিনি আরও যোগ করেন, শহীদ জিয়া যেভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন ও দেশকে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার ঠিক সেই আদর্শ ও ধারা বজায় রেখেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

ধানের শীষের ইশতেহার বাস্তবায়নই মূল লক্ষ্য

সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কোনো অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নয়, এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি রাজনৈতিক সরকার। নির্বাচনের আগে দল যে ইশতেহার ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেছিল, জনগণ তা সানন্দে গ্রহণ করেছে। দেশের মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করেছে।


তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“সংসদে থাকা ২১৪ জন সংসদ সদস্য এবং ৫০ জন ক্যাবিনেট সদস্যের একক পরিশ্রমে এই বিশাল লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সরকারের এই কর্মযজ্ঞকে সফল করতে হলে তৃণমূলের জনমানুষের এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় সহায়তা অপরিহার্য।”

আন্দোলনের চেতনা ধরে রেখে সরকারকেও সফল করতে হবে

বিগত নির্বাচনের সফলতার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—গ্রামে, গঞ্জে, হাটে, বাজারে যেভাবে দিনরাত এক করে পরিশ্রম করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে এখনো কাজ করে যেতে হবে। ভোট পাসের মাধ্যমেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি, বরং জনগণের দৃষ্টিতে একটি ‘সফল সরকার’ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করার আসল যুদ্ধ এখন শুরু।


দলের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকীতে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি সফল গণ-আন্দোলন করেছি। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণকে সাথে নিয়েই আমরা একটি সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। এখন সময় এসেছে সকলে মিলে আমাদের প্রতিশ্রুত ইশতেহার বাস্তবায়ন করার, যাতে একটি সফল সরকার হিসেবে আমরা জনগণের ম্যান্ডেট পূরণ করতে পারি।”

আলোচনা সভায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর সুচারু সঞ্চালনায় এই ঐতিহাসিক আলোচনা সভায় দলের নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্য প্রদান করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপি এবং যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ