
চেতনা একুশ ডেস্ক:
পবিত্র ঈদুল আজহার মহাসম্মিলনে মুখরিত হয়ে উঠেছিল রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। উৎসবের এই পুণ্যলগ্নে সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক এই ঐতিহাসিক জামাতে ইমামতি করেন। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণ ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন
ঈদের এই প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান ছাড়াও অংশ নেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকগণ। ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে সর্বস্তরের মানুষ একসঙ্গে এই জামাতে কাতারবন্দী হন, যা ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
নারীদের সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণ
এবারের ঈদ জামাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল নারীদের জন্য অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ ব্যবস্থা। প্রায় সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লিসহ মোট ৩৫ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই ঈদগাহ ময়দানে মা-বোনদের জন্য ছিল সম্পূর্ণ পৃথক প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের সংরক্ষিত স্থান। পর্যাপ্ত ওজুখানা এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত ছিল ডেডিকেটেড মেডিক্যাল টিম।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও মুসল্লিদের ঢল
ভোর হওয়ার সাথে সাথেই রাজধানীর টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সমমানের প্রতিটি কোণ—মিরপুর, পুরান ঢাকা, উত্তরাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জাতীয় ঈদগাহের দিকে ছুটতে শুরু করেন। জামাত শুরুর নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই পুরো ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে, তিন ধাপের তল্লাশি শেষে মুসল্লিরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ময়দানে প্রবেশ করেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত ভাবগম্ভীর ও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয় এবারের ঈদুল আজহার প্রধান উৎসব।


