
সিঁথি সীমিতা
নিজস্ব প্রতিনিধি, চেতনা একুশ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাইভেট পড়ানোর বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামের এক স্কুল শিক্ষিকার ওপর দা দিয়ে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় তার মাথায় চারটি গভীর কোপ লাগে এবং হাতের চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম (২৫) স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
পুলিশ জানায়, শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত সিঁথি সীমিতা শিবপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ির মৃত সুলায়মান মিয়ার মেয়ে এবং ইতালি প্রবাসী মোঃ মুরাদ মিয়ার স্ত্রী। তিনি শিবপুর বিএমএ কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়াতেন।
প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে তিনি প্রিয়া বেগমের চার বছর বয়সী মেয়ে সাফা মনিকে পড়াতে তার বাসায় যান। পড়ানো শেষে তিনি প্রিয়া বেগমের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর বকেয়া এক হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর নিজের ফেলে আসা ছাতা আনতে আবার ওই বাড়িতে ফিরে গেলে অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন।
শিক্ষিকার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে স্থানীয় ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার জানান, তার ভাবী শিক্ষকতার পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতেন। প্রতিদিনের মতো ওই দিনও তিনি পড়াতে গিয়েছিলেন। পড়ানো শেষে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ প্রিয়া বেগম ধারালো দা দিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


