
নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের (জুলাই–ডিসেম্বর সেশন) পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে জমা দিতে হবে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদন ফরম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (https://du.ac.bd) থেকে ডাউনলোড করা যাবে। যথাযথভাবে পূরণ করা আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। আবেদন ফি হিসেবে জনতা ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি শাখায় এক হাজার টাকা (অফেরতযোগ্য) জমা দিতে হবে।
আবেদনপত্রের সঙ্গে আবেদন ফি জমার মূল রশিদ, সব পরীক্ষার নম্বরপত্র ও সনদের সত্যায়িত ফটোকপি, সদ্য তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং গবেষণার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা (সিনোপসিস) জমা দিতে হবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে আগে ডিগ্রির সমতা নিরূপণ করতে হবে।
যোগ্যতা
আবেদনকারীকে এমফিল ডিগ্রিধারী হতে হবে অথবা কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স কিংবা তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে।
সব পাবলিক পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমান এবং অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। সিজিপিএ পদ্ধতিতে মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সব পরীক্ষায় ৫-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.৫০ অথবা ৪-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.০০ থাকতে হবে।
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারবেন না। তাঁদের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
এ ছাড়া আবেদনকারীর স্বীকৃত জার্নালে কমপক্ষে দুটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত থাকতে হবে। তবে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অন্তত একটি গবেষণা প্রবন্ধ একক নামে প্রকাশিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুই বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, অথবা স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দুই বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা, কিংবা সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
ছুটির বিধান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত প্রার্থীদের পূর্ণকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কমপক্ষে এক বছরের ছুটি নিতে হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক ও বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশ এবং একাডেমিক পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এ শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।
চাকরিরত এমফিল ডিগ্রিধারী বা এমফিল থেকে পিএইচডিতে স্থানান্তরিত প্রার্থীদের ছুটি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে নিয়োগকর্তার অনুমতি নিয়ে প্রোগ্রামে অংশ নিতে হবে। খণ্ডকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রেও ছুটি প্রয়োজন না হলেও প্রতিষ্ঠানের অনুমতি বাধ্যতামূলক।
বৃত্তির সুযোগ
প্রতি শিক্ষাবর্ষে মেধার ভিত্তিতে ৩০ জন গবেষককে মাসিক বৃত্তি দেওয়া হবে। তবে চাকরিরত গবেষক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি বা আর্থিক সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিরা এই বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না। দ্বিতীয় বর্ষেও বৃত্তি নবায়নের সুযোগ থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে আরও দুটি বৃত্তি প্রদান করা হবে।
অন্যান্য নির্দেশনা
পিএইচডি প্রোগ্রামের ফি ও অন্যান্য আর্থিক বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালকের দপ্তর থেকে জানা যাবে। আবেদনকারী যে হলে ভর্তি হতে ইচ্ছুক, সেই হলের প্রাধ্যক্ষের স্বাক্ষর নিয়ে আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে জমা দিতে হবে। তবে যে হলে থেকে এমফিল বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, সেই হলে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যাবে না।
একজন তত্ত্বাবধায়ক এমফিল ও পিএইচডি মিলিয়ে সর্বোচ্চ এককভাবে আটজন অথবা যৌথভাবে ১০ জন গবেষকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। দীর্ঘমেয়াদি ছুটি, ডেপুটেশন বা অবসরের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী যুগ্ম তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সব যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী প্রার্থীরাই কেবল আবেদন করতে পারবেন। কোনো তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট আবেদন বা ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।


