
চেতনা একুশ ডেস্ক:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস সরাসরি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। তবে অলৌকিকভাবে বাসের ভেতরে কোনো যাত্রী না থাকায় এক বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। ফেরিতে ওঠার পূর্বেই যাত্রীরা নিরাপদে নেমে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের আরেকটি বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়, যাতে ২৬ জন যাত্রী নির্মমভাবে প্রাণ হারান। সেই ক্ষত না শুকাতেই আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটল।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক বারেক শেখ জানান, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে চালক, সহকারী ও তত্ত্বাবধায়কসহ মোট ৪০ জনের মতো আরোহী ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি ৭ নম্বর ঘাটের ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’ নামের বড় ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। এ সময় বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে থাকা আরেকটি মাঝারি ফেরির র্যামে সজোরে আঘাত করে। তীব্র আঘাতে র্যামটি ভেঙে বাসটি সরাসরি পদ্মার বুক চিড়ে তলিয়ে যায়। সৌভাগ্যবশত, ঘাটে পৌঁছানোর পর বাসের সব যাত্রীকে আগেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাসে শুধু চালক ও সহকারী অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ও উদ্ধারকারীদের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
আল জুবায়ের নামের এক ভাগ্যবান যাত্রী ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:
“সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেরিঘাটে আমাদের সবাইকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর চালক ও সহকারী বাসটি নিয়ে ফেরিতে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু করেন। ঠিক তখনই চোখের পলকে বাসটি হঠাৎ ডান দিকে বেঁকে গিয়ে সরাসরি পানিতে পড়ে যায়।”
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। বারবার একই ঘাটে এমন দুর্ঘটনা যাত্রী সাধারণের মনে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করছে।


