
প্রতিবেদক: এড্ নাসরিন বেগম
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে হাইকোর্ট ডিভিশনের পূর্ববর্তী রায়টি বহাল রইল। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের পর সংবিধানের ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট পুনর্বহাল এবং মৌলিক অধিকার বলবৎ করার একক ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের কাছেই সংরক্ষিত থাকছে। তবে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে আসা অন্যান্য পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় সংসদ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর বেশ কিছু ধারাকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষ হয় গতকাল বুধবার। টানা তিন কার্যদিবস উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক ও আইনি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ শোনার পর আদালত রায়ের জন্য আজ ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোঃ রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করা হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করার পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানসহ সংবিধানের মোট ৫৪টি ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং তা বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ দেশের পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক। সেই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন, যেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর বেশ কিছু অংশ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। আজ সর্বোচ্চ আদালতেও সেই রায় বহাল থাকল।
রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আপিলকারী পক্ষ ও জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবীরা। এর আগে গত সোমবার থেকে টানা কয়েকদিন ধরে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আপিলকারী বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিলের আবেদন জানান। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংশোধনীর আংশিক বাতিল চাওয়া হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সেগুলো বাতিল করেন হাইকোর্ট। রায়ে সংবিধানের ৪৪(২) অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য হাইকোর্টের বাইরে সংসদ কর্তৃক পৃথক আদালত গঠনের বিধান বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল এবং অসাংবিধানিক উপায়ে সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তনকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য করার বিধানও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া হাইকোর্টের রায়ে সংবিধানে গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। আপিল বিভাগ সেই রায় বহাল রাখায় এসব বিধান কার্যকর হওয়ার পথ আরও সুস্পষ্ট হলো।


