Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

পোড়া মবিল থেকেই জ্বালানি—কুষ্টিয়ায় উদ্ভাবক মনিরুলের নতুন সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া | চেতনা একুশ

শিরোনাম: পোড়া মবিল থেকেই জ্বালানি—কুষ্টিয়ায় উদ্ভাবক মনিরুলের নতুন সম্ভাবনাদেশজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের সংকটে কৃষকরা চরম বিপাকে, ঠিক সেই সময় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম। তিনি পোড়া মবিল ব্যবহার করে বিকল্প জ্বালানি তৈরির দাবি করেছেন এবং ইতোমধ্যে সেই জ্বালানি দিয়ে সেচ কার্যক্রম চালিয়েও দেখাচ্ছেন।

মনিরুল ইসলাম জানান, ২০০৭ সাল থেকেই তিনি ডিজেল ইঞ্জিন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। সে সময় শিক্ষকতা করলেও পরে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। দীর্ঘদিনের চেষ্টা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সম্প্রতি তিনি এই বিকল্প জ্বালানির কার্যকর প্রয়োগে সফল হয়েছেন বলে দাবি করেন।

উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম জানান, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সম্প্রতি তিনি এর কার্যকর প্রয়োগে সফল হন। তিনি এই বিকল্প জ্বালানির নাম দিয়েছেন ‘মেথড অব অলটারনেটিভ ডিজেল’ (MAD)।মনিরুলের দাবি, তার আবিষ্কৃত এই বিশেষ মিশ্রণটি মূলত একটি ‘বুস্টার’। চারটি উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি এই বুস্টারের মাত্র ১০০ মিলিগ্রাম ব্যবহার করে ৫ লিটার পোড়া মবিলকে প্রায় ৭ লিটার ডিজেলের সমপরিমাণ কার্যক্ষম জ্বালানিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

স্বস্তিতে মাঠের কৃষকরাদৌলতপুরের স্থানীয় কৃষকরা জানান, ডিজেল সংকটে যখন তাদের ধান ও পাটের জমি শুকিয়ে যাচ্ছিল, তখন মনিরুলের এই উদ্ভাবন তাদের পথ দেখিয়েছে। কৃষক সোলাইমান শেখ বলেন, “আমরা ডিজেল না পেয়ে হতাশ ছিলাম। এখন মনিরুল ভাইয়ের পরামর্শে পোড়া মবিলের সঙ্গে বুস্টার মিশিয়ে সেচ দিচ্ছি। এতে খরচও কমছে, আর কাজও হচ্ছে ডিজেলের মতোই।” কলার বাগান চাষি জয়নাল আলীও একই কথা জানিয়ে বলেন, এই পদ্ধতিতে তাদের সেচ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে।

আরেক কৃষক জয়নাল আলী বলেন, ধান, পাট ও কলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মৌসুমে সেচ সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন এই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সেই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ফার্ম মেশিনারি বিভাগের ইন্সট্রাক্টর জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটি খরচ সাশ্রয়ী উদ্যোগ হলেও দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এর ব্যবহার নিরাপদ বলা যায় না। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করেই এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন জানান, তারা সরেজমিনে এই জ্বালানির ব্যবহার পরিদর্শন করেছেন এবং প্রাথমিকভাবে ভালো ফলাফল দেখা গেছে। বর্তমানে কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে মাঠ পর্যায়ে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এটি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহও এ উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ডিজেলের সংকটে কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে এই ধরনের উদ্ভাবন কার্যকর হতে পারে। তবে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব আছে কি না, তা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে মনিরুল ইসলামের উদ্ভাবন কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে—যদি তা সঠিকভাবে পরীক্ষা ও অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা যায়।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ