Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

বাজেট ২০২৬-২৭: প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব পণ্য-সেবার দাম বাড়তে ও কমতে পারে

ছবি সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটি প্রথম জাতীয় বাজেট। বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে কিছু পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আবার কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কর ও শুল্ক ছাড়ের আওতায় আনা পণ্যের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

সিগারেট:
সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিম্নস্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে সিগারেটের দাম বাড়বে। এছাড়া নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তেলচালিত গাড়ি:
ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলচালিত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন আমদানিকৃত গাড়ির করহার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব গাড়ির বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিদেশি কাজুবাদাম:
দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে প্রক্রিয়াজাত ও অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিদেশি কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে।

বিদেশি পাঙাশ ফিলে:
দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানিকৃত পাঙাশ ফিলের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডার:
কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডার আমদানিতে ভ্যাট আরোপের ফলে এর বাজারমূল্য বাড়তে পারে।

বিদেশি মধু ও সুপারি:
মধু ও সুপারি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধি করায় আমদানিকারকদের অতিরিক্ত কর দিতে হবে, যা ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

বিদেশি খাদ্যপণ্য:
কফি, সুগার কনফেকশনারি এবং বিভিন্ন প্রস্তুতকৃত খাদ্যপণ্যের শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রসাধনী ও অন্যান্য পণ্য:
লিপ লাইনার, লিপ জেল, বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, ফোম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল, খেলনা এবং কিছু অন্যান্য আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

রড:
রড তৈরির কাঁচামালের ওপর ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে নির্মাণসামগ্রীটির মূল্যও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য:
ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারে এসব পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে।

শিশুখাদ্য:
শিশুখাদ্য তৈরির কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করায় বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমতে পারে।

মসলা:
জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়াসহ বিভিন্ন মসলার ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

খেজুর:
খেজুর আমদানির ওপর থাকা নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক তুলে নেওয়ায় এ পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোনার গয়না:
সোনা সরবরাহে উৎসে কর এবং ভ্যাট কাঠামোয় পরিবর্তনের ফলে সোনার গয়নার ওপর করের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি:
ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা ইভির ওপর কর ও শুল্ক ছাড় বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিতেও কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম কমতে পারে।

ল্যাপটপ ও কম্পিউটার:
ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করায় এসব প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা:
ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের ফলে রোগীদের প্রতি ডায়ালাইসিসে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে।

ওষুধ:
ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে বিভিন্ন কর সুবিধা এবং ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনের জন্য নতুন কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ায় ওষুধ শিল্প উপকৃত হবে।

বাদ্যযন্ত্র ও চলচ্চিত্র সরঞ্জাম:
গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র এবং এর যন্ত্রাংশ আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্কও কমানো হয়েছে।

অন্যান্য:
বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, পিওএস মেশিন, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও কর-শুল্ক হ্রাসের কারণে কমতে পারে।

নতুন বাজেটে সরকারের লক্ষ্য একদিকে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করা। তবে কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে কর বৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হতে পারে।

রিপোর্টার : নাসরিন বেগম

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ