Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

বিরোধী দল তালিকা দিলেই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন: আইনমন্ত্রী


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:


সংসদ অধিবেশনের গত সেশন সমাপ্ত হওয়ার পূর্বেই বিরোধী দলকে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান। প্রস্তাবিত এই কমিটিতে ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে ৭ জন এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে ৫ জন প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫টি সদস্য পদের জন্য বিরোধী দলের তালিকার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।


আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।


আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিরোধী দলের কাছ থেকে ৫ জন প্রতিনিধির নাম চেয়েছি। তারা জানিয়েছে, আগামী সংসদ সেশনে এই তালিকা আমাদের কাছে হস্তান্তর করবে। সরকার বর্তমানে তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। বিরোধী দলের কাছ থেকে নামের তালিকা পাওয়া মাত্রই সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ’ এর মূল চেতনাকে ধারণ করে পরবর্তী রূপরেখা বাস্তবায়নের পথ ধরে হাঁটব আমরা।”


সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়নি, বরং অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আমরা এখনো সংসদে উপস্থাপন করিনি। ইতিমধ্যেই মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম কমিশন আইন—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে আমরা প্রাথমিক অংশীজন পরামর্শ (ফাস্ট কনসাল্টেশন) সম্পন্ন করেছি। সেখান থেকে প্রাপ্ত নানাবিধ গঠনমূলক সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এগুলোকে চূড়ান্ত রূপ দিয়ে সামনের কাতারে নিয়ে আসা হবে।”


এদিকে রাজধানীর মিরপুরে সংঘটিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, “এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে সরকারের যতটুকু আইনি এখতিয়ার ও ক্ষমতা রয়েছে, তার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করার, আলহামদুলিল্লাহ্‌, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাকি প্রক্রিয়া আদালতের বিচারিক এখতিয়ারভুক্ত। আইন মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।”


তিনি আরও যোগ করেন, “সোমবার আদালত খোলার প্রথম দিনেই মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। মামলার নথিপত্র, অকাট্য সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন বলে আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি।”

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ