
নিজস্ব প্রতিনিধি, চেতনা একুশ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল বিষয় এবং সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কে তথ্য উদঘাটনের জন্য রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন উল্লেখ করে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক এ বি এম আবদুল্লাহ আল সাকিব। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদুল ইসলাম শাহীন আদালতে দাবি করেন, ওসি রাকিবুল হাসানকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, রিমান্ডের আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।
আইনজীবী আরও দাবি করেন, কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মামলাটি করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্ত
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে ওসি রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরদিন তাকে মিন্টো রোডে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।
এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে ওসি পরিচয়ে একজনকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমালোচনা করতে শোনা যায়।
রাকিবুল হাসানের নামে প্রচারিত ওই অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।’
অডিওতে ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। তবে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা সেই অবস্থান অনুসরণ করছেন না বলেও তাকে বলতে শোনা যায়।
এ ছাড়া পুলিশের পদায়ন নিয়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও ওই অডিওতে কথা বলতে শোনা যায়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন
অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এর ভিত্তিতে ওসি রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটি তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
এরই মধ্যে তাকে ডিএমপি সদর দপ্তরের প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। সেখানে তাকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য নেওয়া হয়। তদন্ত কার্যক্রম শেষে তদন্ত কমিটি ডিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
এরপরই তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।


