
চেতনা একুশ ডেস্ক: মৌলভীবাজার
রক্তের টান যে কত শক্তিশালী, তা আবারও প্রমাণিত হলো মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিচ্ছিন্ন থাকার পর, অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে নিজের পিতৃভূমির সন্ধান পেয়েছেন ২৮ বছর বয়সী পাকিস্তানি তরুণ সিদ্দিক খান ওরফে ওমর সাদিক।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের অজান্তেই পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন কুলাউড়ার গাজীপুর গ্রামের আলফু মিয়া। সেখানেই বিয়ে করে সংসার পাতেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর ২০০০ সালে স্ত্রী কসর পারভিন ও দুই বছর বয়সী ছেলে সিদ্দিককে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন আলফু মিয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, দেশে আসার মাত্র তিন দিনের মাথায় তাঁর স্ত্রী মারা যান। স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার পর পরিবারের সাথে আলফু মিয়ার যোগাযোগ আবারও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান।
দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি ফেসবুকে ‘বঙ্গ ভিটা’ নামক একটি পেজে আলফু মিয়ার সন্ধানে তার পুরোনো ছবিসহ একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পাকিস্তানি শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ তাহির ওয়াহিদের নজরে আসলে তিনি ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের সহায়তায় আলফু মিয়ার ঠিকানা খুঁজে বের করেন। সেখান থেকেই জানা যায় আলফু মিয়ার মৃত্যুর খবর এবং সন্ধান মেলে তার ছেলে সিদ্দিক খানের।
বাবার স্মৃতি আর নিজের শিকড়ের সন্ধানে গত ২২ মার্চ তিন মাসের ভিসা নিয়ে একাই বাংলাদেশে ছুটে আসেন সিদ্দিক খান। বর্তমানে তিনি কুলাউড়ার গাজীপুরে তাঁর পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ঘুরে দেখছেন এবং আত্মীয়-স্বজনদের সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ ২৪ বছর পর রক্তের সম্পর্কের এই স্বজনকে কাছে পেয়ে আলফু মিয়ার পরিবার এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।
শৈশবের স্মৃতি মনে না থাকলেও, বাংলাদেশে এসে অল্প দিনেই বেশ কিছু বাংলা শব্দ ও সিলেটি আঞ্চলিক ভাষা আয়ত্ত করে নিয়েছেন সিদ্দিক। জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে উর্দু মিশ্রিত বাংলায় তিনি জানান, এখানকার আত্মীয়-স্বজনদের পেয়ে তার মন ভরে গেছে। বিদায় বেলায় সিলেটি আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, “আবার আইমু (আসব)। খোদা হাফেজ।”


