
নিজস্ব প্রতিবেদক। চেতনা একুশ
রক্তস্নাত জনপদে যে নতুন ভোরের সূর্যোদয় হয়েছে, সেই সূর্যকে সাক্ষী রেখে এক ঐতিহাসিক ভাষণে সম্প্রীতি ও কর্মতৎপরতার নতুন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, প্রতিহিংসা নয়, বরং সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রয়াসই পারবে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে।
সংসদ হোক সমৃদ্ধির বাতিঘর
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এই সংসদ কোনো ব্যক্তিবর্গের নয়, বরং এটি হাজারো শহীদের পবিত্র রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ১৬ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বলেন, “সংসদকে স্থিতিশীল রাখতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সরকারি দল ও বিরোধী দল—আমরা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইলে দিনশেষে বাংলাদেশই ব্যর্থ হবে।”
ইতিহাসের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার
অতীতের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং ১৭৩ দিনের হরতালের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির মাশুল যে দেশ এখনো দিচ্ছে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতার চেয়ারটি বাইরে থেকে আরামদায়ক মনে হলেও এটি আসলে ‘আগুনের তাপ’ বহন করে। তিনি পপুলিস্ট বা সস্তা জনপ্রিয়তার রাজনীতি বিসর্জন দিয়ে দেশের স্বার্থে কঠিন ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি হয়তো আরও পপুলার কথা বলতে পারতাম, যেটাতে আরও অনেক বেশি তালি হতো। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে বলে আমি সব সময় পপুলার কথা বলতে পারি না।’ তিনি বলেন, এই চেয়ার বলে তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্তই নিতে হবে, পপুলার সিদ্ধান্ত নয়।
বিরোধী দলের প্রতি সহমর্মিতার হাত
সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষায় তিনি বিরোধী দলের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, দ্বিমত থাকবেই, বিতর্ক হবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দেশের প্রশ্নে সবাইকে এক হতে হবে। এমনকি ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দলকে ছেড়ে দেওয়ার পূর্বের প্রস্তাবটি এখনো বহাল আছে বলে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন।
অধিবেশনের ইতি
গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশন ২৫টি কর্মদিবস পার করে বৃহস্পতিবার সমাপ্ত হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সমাপনী বক্তব্য শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় সংসদ কক্ষে এক অভূতপূর্ব পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের সদস্যদেরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে টেবিল চাপড়ে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানাতে দেখা যায়, যা আগামীর এক ইতিবাচক রাজনীতির ইঙ্গিত দেয়।


