
দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে কেন র্যাম্প স্থাপন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ভবন নির্মাণ বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাংবিধানিক ও মানবাধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
বিবাদীদের জবাব তলবআদালত এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। রুলে আইন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিব এবং স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার।
আইনি বাধ্যবাধকতা ও অবহেলাশুনানি শেষে রিটকারী আইনজীবী জানান, মূলত দুটি প্রধান আইনের বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে :
• ভবন নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮: এর বিধি ৬৪ ও পরিশিষ্ট-২ অনুযায়ী ভবনগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক।
• প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩: এই আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী সকল পাবলিক স্থাপনায় প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা:
আদালত তার রুলে জানতে চেয়েছেন, কেন এই আইনগুলো মেনে চলতে বিবাদীদের অবহেলাকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। একইসঙ্গে, যেকোনো সরকারি ভবনের নকশা বা পরিকল্পনা অনুমোদনের আগেই তাতে ‘প্রবেশগম্যতা র্যাম্প’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে রাজউক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না— তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় উচ্চ আদালতের এই রুলকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা।
রিপোর্ট : নাসরিন বেগম


