
চেতনা একুশ ডেস্ক :
কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পর হঠাৎ কারিগরি ত্রুটিতে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং আরও বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে কয়লা সংকটের কারণে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লার সরবরাহ বাড়ায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর কেন্দ্রটিতে উৎপাদন বাড়তে শুরু করে। রাতের দিকে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ করে রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন নেমে আসে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যায়। গত মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল।
এরপর কয়লা সরবরাহ আরও বাড়ায় গতকাল রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবারও বড় ধরনের উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর শুরু হবে ত্রুটি মেরামতের কাজ। ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এখানে ৮০০ মেগাওয়াট করে ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট রয়েছে। বিদ্যুৎ চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই কেন্দ্র থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি করে। দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় এই কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এদিকে শুধু আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতিও বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে। পিডিবি সূত্র জানায়, দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমেছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।
একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কয়লা সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কিছুদিন ধরে কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। একই জেলার আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও দেখা দিয়েছে কয়লা সংকট। অন্যদিকে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লার ঘাটতির কারণে উৎপাদন কমেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি সামাল দিতে জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও তাতে পরিস্থিতির বড় কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এর মধ্যে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিংও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল দিনের সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে বেলা ৩টার দিকে। ওই সময় সারাদেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে। এমনকি আজ শুক্রবার ছুটির দিন সকালেও সারাদেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে সামনের কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।


