Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

ঋণখেলাপির দায়ে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল: সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়, শপথ নিতে পারছেন না

প্রতিবেদক: এড্ নাসরিন বেগম

ঋণখেলাপির গুরুতর অভিযোগে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল ঘোষণা করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ফলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েও তিনি আর সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিতে পারছেন না। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। বিচারিক ইতিহাসে এই রায়কে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে একটি কঠোর ও যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞরা।

রায়ের পর আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও আইনি বাধ্যবাধকতা

আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশের পর আপিলকারীর পক্ষে লড়া বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান:

“ঋণখেলাপির মতো স্পর্শকাতর অভিযোগে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় তার এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক রায়। এর মাধ্যমে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিল যে—ঋণখেলাপি কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাময়িকভাবে জয়ী হলেও, আইনকে ফাঁকি দিয়ে শেষ পর্যন্ত সংসদের চেয়ারে বসতে পারবেন না।”

চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি আরও যোগ করেন, এই আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে সরাসরি বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি নতুন করে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—তা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল রায়ের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে বলেন:

  • সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রতিটি নাগরিক এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক।
  • আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের পর পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পরেই দ্রুত গ্রহণ করা হবে।

যেভাবে আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের পরপরই আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ঋণখেলাপির অভিযোগটি সামনে আসে। তবে নাটকীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানির একেবারে শেষ দিনে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেয়। কমিশনের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হলেও, হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বহাল রাখার আদেশ দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে ওই একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী (জামায়াতে ইসলামী) আনোয়ার সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালত সেই আপিল মঞ্জুর করে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে—আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে জয়ী হলেও চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল স্থগিত থাকবে।


অবশেষে আজ দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানির অবসান ঘটিয়ে আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের চূড়ান্ত রায় দেন, যা দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন নজির স্থাপন করল।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ