Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির যুগ শুরু, প্রথমবার চালু হলো অনলাইন ব্যবস্থা

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ

দেশে এই প্রথম বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য আনুষ্ঠানিক বদলি ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন থেকে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে একই পদে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করতে পারবেন শিক্ষকরা। এ উদ্দেশ্যে সরকার ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল-কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে। এটি দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে। প্রতিবছর সরকারি প্রজ্ঞাপনে আবেদন, বদলির আদেশ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম নিয়োগের পর টানা দুই বছর একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে একজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবার বদলি হয়ে নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পরও পুনরায় আবেদন করতে চাইলে সেখানে অন্তত দুই বছর চাকরি করতে হবে। একজন শিক্ষক তার পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।

বদলির ক্ষেত্রে প্রথমে নিজ জেলার শূন্য পদের জন্য আবেদন করা যাবে। নিজ জেলায় সুযোগ না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশের যেকোনো জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল-সংক্রান্ত জেলায় বদলির আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী প্রার্থী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলি হতে পারবেন। তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না। আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।

পুরো বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এবং আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে মাউশির মহাপরিচালকের ওপর। বদলি হলেও শিক্ষকের এমপিও সুবিধা, আর্থিক প্রাপ্য এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে।

তবে বদলিকে কোনো শিক্ষকের অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। বদলির ক্ষেত্রে টিএ-ডিএ ভাতা প্রদান করা হবে না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত করবেন এবং অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। এছাড়া যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর রয়েছে বা ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন, তারা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

মাউশির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতগুলো শূন্য পদ থাকবে, ততজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে আবেদন নীতিমালায় নির্ধারিত ভৌগোলিক সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ