Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধরে রেখে স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদ রুখতে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিনিধি, চেতনা একুশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কখনও স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা বা উগ্রবাদের উত্থান না ঘটে।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দ, বিজয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে বীর ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও দীর্ঘ সময় মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি থাকতে হয়েছে।

তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠরোধ করতে দেশে গড়ে তোলা হয়েছিল শত শত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’। সেখানে বহু মানুষকে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখা হয় এবং অনেককে চিরতরে গুম করা হয়েছে। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মীর এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করার পাশাপাশি রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে দেশকে নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারকে স্বাভাবিক চর্চায় পরিণত করা হয়েছিল এবং দেশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের আন্দোলনের কাছে সেই শাসনব্যবস্থার পতন ঘটে।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, মুটে-মজুর, পোশাকশ্রমিক, পরিবহনশ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, নারী-শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আন্দোলন দমনে গুলি চালানো হয় এবং বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। এমনকি শিশুদেরও রেহাই মেলেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও শহীদ মুগ্ধসহ গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে হাজারো মানুষ শহীদ হন, অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হন এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে অঙ্গহানি বা দৃষ্টিশক্তি হারান।

তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে থাকা ব্যক্তিরাও দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে যেমন অনন্য, তেমনি বিশ্ব ইতিহাসেও এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিটি সংগ্রামে অসংখ্য মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সব শহীদকে স্মরণ করেন এবং বলেন, শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি জাতি চিরঋণী।

তিনি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা এবং জাতির অঙ্গীকার।

:::

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ