Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

চাকরির জন্য অপেক্ষা নয়, তরুণরাই হবে উদ্যোক্তা: প্রধানমন্ত্রীর নতুন অর্থনৈতিক বার্তা

চেতনা একুশ ডেস্ক:

গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা শিরোনামে উপস্থাপিত এবারের বাজেটটি শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের প্রথাগত হিসাব নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে একটি সুদৃঢ় ও নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প। বাজেট প্রসঙ্গে এভাবেই নিজের সুচিন্তিত অভিমত ব্যক্ত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নয় লাখ আটত্রিশ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী শ্রেণির কবল থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।


দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে উন্নয়ন ব্যয় পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে তিন লাখ ষোল হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের পেছনে কত টাকা ব্যয় হলো তা বড় বিষয় নয়; বরং সেই প্রকল্প সাধারণ মানুষের জীবনে কী ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সেটিই সরকারের মূল বিবেচনা।

অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নের ৩টি মহতি ধাপ

এই অর্থনৈতিক দূরদর্শী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী:

  • প্রথম ধাপ: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
  • দ্বিতীয় ধাপ: সামগ্রিক রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ।
  • চূড়ান্ত ধাপ: উৎপাদনশীল ও উদ্ভাবননির্ভর একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনৈতিক ভিত সুদৃঢ় করা।

প্রকৃত উন্নয়ন: স্বস্তি ও তরুণদের কর্মসংস্থান

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, শুধু জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সার্থক হয়, যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে এবং দেশের তরুণ সমাজ তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায়।

‘আমরা ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছি, যেখানে তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তারা নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।”

দেশীয় শিল্পের বিকাশ, রুগ্ন শিল্প কারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর গতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ