Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

জমি কেনার নামে স্ত্রীর ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পাওনা টাকা চাওয়ায় স্ত্রীকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা জামায়াত নেতার

বিশেষ প্রতিবেদক, চেতনা একুশ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হত্যা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে উন্মোচিত হয়েছে নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য।

টাকার দ্বন্দ্ব ও হত্যার পরিকল্পনা

মামলার অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর জমি কেনার কথা বলে স্ত্রী সালেহা বেগমের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেন আবু বক্কর। তবে জমি না কিনে তিনি সালেহার কাছে আরও টাকার দাবি তুলতে থাকেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তাদের তালাক হয়।

পরবর্তী সময়ে সালেহা তার পাওনা টাকার জন্য চাপ দিলে আবু বক্কর তাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেই অনুযায়ী, ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে মোঃ সেলিম নামের এক ব্যক্তিকে সালেহাকে খুন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

যেভাবে উদ্ঘাটিত হলো হত্যা রহস্য

আদালত সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১৫ জুন সালেহা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৬ জুন কমলনগর উপজেলার মতিরহাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সালেহার মেয়ে ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে কমলনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত বছরের জুলাই মাসে সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে সেলিম জানান, আবু বক্করের প্ররোচনায় ও নির্দেশে তিনি কৌশলে সালেহাকে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। হত্যার পর সালেহার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করে তিনি সাভারে নিয়ে বিক্রি করেন এবং আত্মগোপনে চলে যান।

অভিযোগপত্র ও আত্মসমর্পণ

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর পুলিশ এই মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করে। সেলিমের জবানবন্দির পর পুলিশ আবু বক্করকে গ্রেপ্তারের একাধিক চেষ্টা করলেও তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ দিন পর গত সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

দলীয় বক্তব্য

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহ জানান, আবু বক্কর বর্তমানে দলটির কোনো পদে নেই, তবে অতীতে তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ