
নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ
দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশৃঙ্খলা থাকলে শিল্প-কারখানা স্থাপন ও পরিচালনা সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীরা চান তাঁদের পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দরে পৌঁছাক, কাঁচামাল সময়মতো আসুক এবং রাস্তাঘাটে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকুক।
তিনি বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না। এ জন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।’
শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ নির্মাণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের বইসহ শিক্ষা খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম চালাতে হলে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রয়োজন।
যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের কোনো সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভ্রান্তকারীরা সুযোগ পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। তারা নিজেদের মতো চলে যাবে, জনগণের পাশে থাকবে না।
দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে, নাকি ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও বিভ্রান্তির মধ্যে থাকা হবে—এ সিদ্ধান্ত দেশের মানুষকেই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল। এরই মধ্যে পাইলট প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এবার সারা দেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে এ কার্ড দেওয়া হবে।
মায়েদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, নারীরা যাতে সংসারের হাল ধরতে পারেন, সন্তানদের লেখাপড়া ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারেন এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারেন, সে লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মিরসরাই-মাতারবাড়ি ঘিরে শিল্পায়নের পরিকল্পনা
সমুদ্রকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত শিল্প-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তিনি মাতারবাড়ি সফর করেছেন।
বাঁশখালীতে ১০০ পরিবার পেল নতুন ঘর
প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাঁশখালীতে ১০০টি অসচ্ছল পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ঘরে রয়েছে দুটি কক্ষ ও একটি সংযুক্ত শৌচাগার। উপকূলীয় এলাকার দুর্যোগ বিবেচনায় ঘর নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়। এ ছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে দিনভর কর্মসূচি
রোববার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে তেজগাঁও বিমানবন্দরে যান প্রধানমন্ত্রী। সকাল সোয়া ৯টার দিকে হেলিকপ্টারে মাতারবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে হেলিকপ্টারটি মাতারবাড়িতে পৌঁছায়।
এরপর ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, হাটহাজারীতে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচি শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হজরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।


