
নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ :
দেশের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা একদম দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স-সেবা নিশ্চিত করতে এবার দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুচ্চালিত (ইলেকট্রিক) অ্যাম্বুলেন্স তৈরির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই মেগা প্রকল্প সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিন স্তরের চিকিৎসাসেবা পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সগুলোর নকশা করা হবে। মূলত তিন পর্যায়ে জরুরি রোগী পরিবহনের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে:
১. গ্রাম থেকে উপজেলা
২. উপজেলা থেকে জেলা এবং
৩. জেলা থেকে সরাসরি রাজধানী ঢাকা।
এই তিন স্তরের যোগাযোগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরির অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা হবে।
প্রাথমিক লক্ষ্য:
পাইলট প্রজেক্ট বা মডেল হিসেবে প্রথমে দেশের একটি নির্দিষ্ট উপজেলাকে বেছে নিয়ে এই বিদ্যুচ্চালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির কাজ শুরু হবে। সেখানে সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে দেশজুড়ে এর বিস্তার ঘটানো হবে।
কমবে আমদানিনির্ভরতা, যুক্ত হবে আধুনিক প্রযুক্তি:
বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে সভায় জানানো হয়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই পরিবেশবান্ধব অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে থাকবে সব ধরনের লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেম। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সাপোর্ট এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার সব রকম আধুনিক সুবিধা যুক্ত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই দেশীয় উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা খাতে বিদেশি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। একই সাথে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা দেশের সার্বিক জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব আনবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
এছাড়াও কারিগরি ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিতে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) খ্যাতিমান শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ এহসান, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক আবদুল সালাম আখন্দ ও অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


