বাংলাদেশ বর্তমানে এক জটিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক সন্ধিক্ষণ পার করছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৩ বছরে আমাদের প্রাপ্তির খাতা যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও ‘জ্বলন্ত’ ইস্যু হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি।
বাজার ব্যবস্থার ওপর অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার অজুহাতে সাধারণ মানুষের পকেট যেভাবে শূন্য করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে প্রতিটি অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আজ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের নাগালে বাইরে। সকালে বাজারে গিয়ে যে দাম দেখা যায়, বিকেলে তা বদলে যাচ্ছে। এই অস্থিরতা কেবল সাধারণ মানুষের পুষ্টি বা আহারে টান দিচ্ছে না, বরং জনমনে এক গভীর অসন্তোষ ও হাহাকারের জন্ম দিচ্ছে।
একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের বুঝতে হবে, কেবল আইন করে বা অভিযান চালিয়ে এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন টেকসই বাজার তদারকি ব্যবস্থা, শক্তিশালী সরবরাহ চেইন এবং উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা। দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর বিকল্প উৎস দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।
’চেতনা একুশ’ সবসময় সত্য ও ন্যায়ের কথা বলে আসছে। আমরা মনে করি, উন্নয়ন কেবল আকাশচুম্বী দালান বা বড় অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে এবং খাবারের থালায় প্রতিফলিত হতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে আমাদের দাবি—বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে স্বস্তিদায়ক করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার যেন কেবল বিত্তশালীদের একচেটিয়া অধিকারে পরিণত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখাই হোক এবারের অঙ্গীকার।
ডক্টর মুহাম্মদ হায়দার আলী
সম্পাদক, চেতনা একুশ।
