Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

পুলিশের নজর এড়াতে বাড়ি থেকে সড়ক পর্যন্ত ২০ সিসিটিভি, কবুতরের ঘরে আস্তানা- তবু শেষরক্ষা হলো না ‘হ্যাকার সম্রাট’ ওহিদুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চেতনা একুশ

গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে বাড়ি পর্যন্ত বসানো ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। পুলিশের গতিবিধি নজরে রাখতে বাড়ির ভেতর আলাদা মনিটর। সাতটি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করতেন ৬৮টি সিম কার্ড। আর পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে কয়েক শ কবুতরের থাকার ঘরেই বানিয়েছিলেন নিজের শোবার জায়গা। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় ছিল না, সেখানে মানুষের বসবাস।

এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার নানা কৌশল নিয়ে হ্যাকিং কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লা (৩২)। তবে এত আয়োজনও শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওহিদুল লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। পুলিশ বলছে, ইমো হ্যাকিং চক্রের রাজধানীখ্যাত বিলমাড়িয়া গ্রামের তিনি ‘হ্যাকার সম্রাট’। তার অধীনে এলাকায় কয়েক শ হ্যাকার চক্র গড়ে উঠেছে। তাদের অনেকে তাকে গুরু হিসেবে মানেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল বাড়িটিকে কার্যত একটি নজরদারি ব্যবস্থার মধ্যে রেখেছিলেন। গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ছিল। পুলিশের কোনো সদস্য বা গাড়ি বাড়ির দিকে এগিয়ে এলে আগেভাগেই যেন খবর পান, সেই ব্যবস্থা ছিল।

প্রাচীরঘেরা পাকা বাড়ির একটি কক্ষে কয়েক শ কবুতরের জন্য বাসা বানানো হয়েছিল। সেই ঘরের মধ্যেই রাখা হয়েছিল একটি খাট। সেখানে ঘুমাতেন ওহিদুল। বাইরে থেকে দেখে ওই ঘরে মানুষের থাকার ব্যবস্থা আছে—এমনটা বোঝার সুযোগ ছিল না।

কিন্তু ভেতরের চিত্র ছিল ভিন্ন। ঘরটিতে ছিল দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র। পুলিশের দাবি, এই ঘরেই বসে হ্যাকিংয়ের কাজ করতেন ওহিদুল। অন্যের মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য এখান থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।

অভিযানে ওই ঘর থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। সিমগুলোর নম্বর সাদা কাগজে ছক করে লেখা ছিল। কোন সিম বিকাশের কাজে ব্যবহার করা হতো আর কোনটি নগদের জন্য—তা বোঝাতে দেওয়া ছিল সাংকেতিক চিহ্ন।

হ্যাকিংয়ের কাজে সাতটি মুঠোফোন ব্যবহার করতেন ওহিদুল। এসব ফোনে সিম কার্ড অদলবদল করে ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতেন দামি মোটরসাইকেল।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল মোল্লা ইমো হ্যাকিং চক্রের রাজধানীখ্যাত বিলমাড়িয়া গ্রামের ‘হ্যাকার সম্রাট’। তার অধীনে এলাকায় কয়েক শ হ্যাকার চক্র গড়ে উঠেছে। সবাই তাকে গুরু হিসেবে মানেন।

ওসি জানান, এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুল মোল্লার পাশাপাশি তার পাঁচ সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে ওহিদুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ