Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

নতুন নেতৃত্ব, নতুন প্রত্যাশা—কেমন হবে আগামীর বাংলাদেশ

তারেক রহমান এর নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময় সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ সময়েই জনগণ দেখতে চায় প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো নানা অঙ্গীকার করে—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি দমন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়। জনগণ ভোট দেয় কেবল সরকার গঠনের জন্য নয়, বরং জীবনের মানোন্নয়নের আশায়।

নতুন সরকারের সামনে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বৈদেশিক আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও প্রযুক্তিখাতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

দ্বিতীয়ত, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। নির্বাচন শেষ মানেই বিভক্তি শেষ হওয়া উচিত। বিরোধী মতকে সম্মান, সংসদকে কার্যকর করা, মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা রক্ষা করা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।

তৃতীয়ত, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না। দুর্নীতি, দলীয়করণ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং জনভোগান্তি কমাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণ এখন কথার চেয়ে কাজ দেখতে চায়।

নতুন সরকারকে মনে রাখতে হবে—ক্ষমতা অর্জনই শেষ লক্ষ্য নয়, জনগণের আস্থা ধরে রাখাই বড় সাফল্য। যদি জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়, তবে এই সরকার নতুন আশা সৃষ্টি করতে পারবে। আর যদি পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়, তবে হতাশা দ্রুত ফিরে আসবে।

বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক শাসন চায়। নতুন সরকারের সামনে এটাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ