Skip to main content

Chetona Ekush

, ,

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রমে আসছে বড় পরিবর্তন: যুক্ত হচ্ছে নতুন বিষয় ও প্রকৃত ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিনিধি । চেতনা একুশ

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের আমূল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সংগতি রেখে পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং একটি যুগোপযোগী ও আধুনিক নতুন শিক্ষাক্রম চালুর মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষাক্রমে বেশ কয়েকটি নতুন বিষয় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিমার্জন করা হচ্ছে প্রায় ৬০১টি পাঠ্যবই। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকসহ ৩২০ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞ নিরলসভাবে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে মাধ্যমিকের বই পরিমার্জনের কাজ শেষ করে প্রাথমিকের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই পরিমার্জিত বইগুলো মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা শতভাগ নতুন বই হাতে পেতে পারে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে যুক্ত হচ্ছে নতুন বিষয় ও আধুনিক প্রযুক্তি

এনসিটিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সূত্রমতে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে তিনটি সম্পূর্ণ নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

• চতুর্থ শ্রেণি :‌ ক্রীড়া ও সংস্কৃতি

• ষষ্ঠ শ্রেণি : লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস

• সপ্তম শ্রেণি : জীবন ও কর্মমুখী শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করা, মানসিক বিকাশ ঘটানো এবং ডিজিটাল আসক্তি কমিয়ে মাঠপর্যায়ের খেলাধুলায় আগ্রহী করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে আসছে আমূল পরিবর্তন। পুরোনো বিষয়বস্তু বাদ দিয়ে সেখানে স্থান পাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস, সাইবার নিরাপত্তা ও হার্ডওয়্যারের মতো আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রযুক্তি।

ইতিহাসে ফিরছে ভারসাম্য ও প্রকৃত সত্য

দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিচ্যুতি ও একপেশে ইতিহাস সংশোধন করে পাঠ্যবইয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি। নতুন পাঠ্যক্রমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ফোর্সের বিস্তারিত বিবরণ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকা যুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ও রাজনৈতিক অবদান সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ে বিস্তারিত তথ্য সংযোজন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসও পাঠ্যবইয়ে সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন কারিকুলাম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

শুধু বিষয়বস্তুই নয়, পাঠ্যবইয়ের ভাষা, শব্দচয়ন, বানান, প্রচ্ছদ ও অলংকরণেও আনা হচ্ছে নান্দনিক পরিবর্তন। এদিকে ২০২৭ সালের পরিমার্জনের পাশাপাশি ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ধাপে ধাপে একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে, যার মূল দর্শন হবে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’। এতে বইয়ের সংখ্যা কমবে এবং ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বহুগুণ বাড়বে।

এই প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান বিশ্বের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের বাস্তবতায় দশকের পর দশক পুরোনো কারিকুলাম দিয়ে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই সরকার সম্পূর্ণ যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কাজ করছে, যা ২০৮8 সাল থেকে পর্যায়ক্রমে পুরোপুরি চালু করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ